–Avidha goswami
এইতো কয়েকদিন আগে পর্যন্ত আমি ওই daily-passenger দের তালিকায় পড়তাম,
2017-2020 এর March অবধি প্ৰায় রোজই হয়তো college, tusn প্রভৃতি কারণে আমাকে বাসে ট্রেন এ যাতায়াত করতে হতো।
প্রায় বেশিরভাগ দিন আমি আমার গন্তব্যস্থানে
পৌঁছাতাম বাসে করে,ফিরতাম ট্রেনে।
ট্রেনের সহযাত্রী বলতে আমার এক দল বন্ধু – বান্ধব সাথে একগাদা হইহুল্লোড় আর পিয়েনপিসি ফ্রী ; ইন ওদার হ্যান্ড বাসের সিচুয়েশনটা হতো পুরোপুরি উল্টো, শুধু আমি আর আমার সহযাত্রী ear cord মহাশয়। যদিও আমি ট্রেন প্রেমী তবুও বাসের ওই নিঃসঙ্গতা আমায় একটা ভিন্ন অনুভূতি প্রদান করতো,বিশেষ করে শীতের সকাল। যেহেতু শীতের সকালে বাসে তেমন ভিড় হতো না , মানুষ বলতে ওই শুধু আমার মত কয়েকজন স্টুডেন্ট, কিছু মাছ ব্যাবসায়ী আর হাতে গোনা দু-একজন দূরপাল্লার যাত্রী এবং অফিস -কাচারীর মানুষ , তাই আমার কপালে জানলার পাশের সিট টা ঠিক জুটেই যেত। আমি আবার একটু স্বার্থপর ধাঁচের, সবসময় চায়তাম যাতে কোনো পরিচিতি মানুষ এই বাসে না ওঠে তাহলে আবার সেই গল্পের ঝুড়ি মেলে বসতে হবে, তার ওপর সে যদি বয়স্ক কেউ হয় তাহলে তো ব্যাস হয়েই গেলো, ইন্টারভিউ স্টার্ট, উফ্ ভীষণ বিরক্তিকর । দুর্ভাগ্যবশত মাঝে মাঝে আমাকে ওই অবস্থার মুখোমুখি হতেও হয়েছে; অনেক কষ্টে মুখটুখ ঘুড়িয়ে না চেনার ভানও করেছি কয়েকবার , মাঝে মধ্যে এই প্রক্রিয়ায় ডাহা ফেল ও করে বসতাম।
ট্রেনের টা মানা যায় .. কিন্তু বাসে বসে এই হেজানো ব্যাপারটা, তেমন বিশেষ কিছু কারণ না থাকলেও ব্যাক্তিগতভাবে আমি মানতে নারাজ , কিন্তু ওই দু – একদিন মেনে নিতাম বাধ্য মেয়ের মতো।

Basically আমি ছিলাম রোজকার বাঁধা- ধরা সকাল 6 টার ‘আশা’ নামে একটি লাল – সাদা বাসের যাত্রী সেই বাসটিতে বেলা বাড়ার সাথে সাথে নিয়ম করে রোজ ভিড়ভাট্টাও বেশ ভালোই বাড়তে থাকতো কিন্তু তাতে আমার নিঃসঙ্গতায় তেমন কিছু ব্যাঘাত ঘটতো না।
শীতেকালে বাসের ভিতরকার আবহাওয়া আর গরমকালের অবহাওয়ার মধ্যে আকাশ আর পাতাল তফাৎ যেটা ঠিক ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, একমাত্র যারা সজ্ঞানে উপলব্ধি করে তারায় বুঝবে প্যাঁচপ্যাঁচে,ঘেমো deodorant যুক্ত সুগন্ধ- দুর্গন্ধ মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়া সেই মনোরম অবস্থার কথা তারপর যদি সিট না পাওয়া যায় তাহলে ব্যাপারটা সৌন্দর্য আরো বাড়তে থাকে।কিন্তু যায় হোক না কেনো আসল সুখ তো শীতের সকালের সেই বন্ধ জানলার বাইরে কুয়াশা ঢাকা রাজপথ , বাসের চাকার আগে আগে ছুটে যাওয়া দুপাশের সবুজ, ঘোলাটে আকাশে একটুকরো আলো , গায়ে দুটো সোয়েটার , কান মাথা জড়ানো স্কার্ফ , কানে ইয়ার কর্ড , কোলে ব্যাগ নিয়ে জড়িয়ে জাপটে ঘাপটি মেরে এক কোণে বসে থাকা আমি উফ্!!। আমার যেতে মোট 45 মিনিট সময় লাগতো,তাঁর মধ্যে প্রথম 20 মিনিট আমি মগ্ন থাকতাম নিজের ভাবনার জগতে আর পরবর্তী 25 মিনিট গভীর নিদ্রায়, আহা! কি সুখ, এই সুখ জন্ম – জন্মান্তরে ভুলিবার নয়, কিন্তু আমার এই চরম সুখ ,ওই অদৃশ্য শক্তির বেশিদিন সহ্য হলোনা বা মা একটা প্রবাদ বলেন ‘কুকুরের পেটে ঘি সহ্য হয়না’ তাইই হলো বোধহয় আমার সাথে।
আমার বাসে ওঠার ঠিক 10 মিনিট পরে আসে 2 নং স্টপেজ , সেখানে থেকে রোজ এক দাদা উঠতেন , উনি দাদা নাকি ঠিক জানিনা যদিও, কারণ কোনো মানুষের মুখ দেখে যেমন তার চরিত্র নির্ধারণ করা যায়না,তেমন বয়সটাও বোঝা যায়না ঠিক, তো যায় হোক তিনি রোজ এসে স্টুডেন্ট দের অধিকৃত একেবারে শেষের দিকের 5টা সিট, সেখানে এসেই বসতেন। আমার পাশের 4 টা সিট খালিই থাকতো সেই সময়, যথারীতি উনি কখনো আমার পাশে ,কখনো বা একেবারে বাম দিকের জানলার পাশে সিট টিতে বসতেন। তার পরনে ছিট্ কেটে বানানো প্যান্ট আর ইন করা full sleeves shirt , বেশভূষায় তেমন চাকচিক্য ছিলনা বললেই চলে; শ্যামলা,দাড়ি – গোঁফ, গ্রাম্য ছাঁপ যুক্ত একটি পুরুষ যার মুখ দেখে এই সামান্য ধারণা পাওয়া যেত যে আজকালকার ছেলেপুলে দের চালাক -চতুরতা ধরিবাজি এইসব তাকে খুব একটা স্পর্শ করেনি তখনও অবধি , কিন্তু এতে আমার কোনরকম সমস্যা ছিলনা, সমস্যাটা দেখা দিল যেদিন থেকে সে আমার প্রতি তার সেই দৃষ্টি আরোপ করতে শুরু করলেন, … তার দৃষ্টিটা আবার অন্যরকম,বাইরে – টাইরে বেরোলে বোঝা যায় যে দৃষ্টির কতরকমের প্রকারভেদ হয়,তিনি এমন ভাবে তাকিয়ে থাকতেন যেন কিছু বলতে চায়ছেন , কটূতা পূর্ণ দৃষ্টি বলা যায় না তাকে তব সে যেই হরিদাস পাল হন্ না কেন বা তার যতই সুদৃষ্টি হোক,কেউ যদি একভাবে তাকিয়ে থাকে ,তাহলে চরম অসস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয় বৈকি..
এইভাবে প্রায় কয়েকদিন চলতে থাকে,এরপর আমার সহ্য হয়নি একদিন জিজ্ঞেসই করে ফেললাম্
— কিছু বলবেন?
আমার প্রশ্ন শেষ না হতে হতেই ,একেরপর এক প্রশ্ন করতে শুরু করলেন ,যেনো আমি কখন এই কথাটি বলবো তার জন্য অধীর আগ্রহে বসে ছিলেন।
— কোথায় থাকো তুমি?, নাম কি? , কোন কলেজ?, কোন সাবজেক্ট এ honors? কার কাছে tusn পড়ি? ইত্যাদি।
সব ঠিকঠাক বললেও নাম টা আমি মিথ্যা বলেছিলাম্ , কলেজে ভর্তি হওয়ার আগে আমি কোনদিনই মা- বাবাকে ছাড়া বাসে; ট্রেনে যাতায়াত করিনি ,তাই ওনারা আমাকে নিয়ে বেশ ভয়ের মধ্যে থাকতেন সাথে আমার মধ্যেও আনস্মার্ট, আনএকসপার্টনেস ব্যাপারটা ভালো মতনই ছিল ,তাই ঐকদিনে এই ধরনের কিছু কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতেও হয়েছিল আমাকে। ঘটনাস্বরুপ আমার এক বান্ধবী আমাকে শিখিয়ে দিয়েছিল যে এইরকম আবার যদি কখনো অচেনা কেউ নাম – ধাম জিজ্ঞেস করে, বেশি উদার না হয়ে যেন্ আমি মিথ্যে বলি, তার এই শিক্ষা টিকেই সেইদিন পালন করেছিলাম আমি।
পরেরদিন ওই দাদা আমাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করেননি, একটু ঠোঁট চিঁড়ে ,দাঁত বার করে হেসেছিলেন মাত্র, গতদিনের প্রশ্নগুলোর উত্তর পেয়ে নিজেকে আমার পরিচিতি ব্যক্তি ভেবে বসেছিলেন বোধহয়, কিন্তু তাতে আমার কিছু যায় আসেনি ,আমার কাছে তিনি তখনও সম্পূর্ণ অচেনা – অজানা একজন সহযাত্রী ,এর চেয়ে বেশি আর কিছু নয়। ধীরে ধীরে তার ব্যাবহার এ একটা অদ্ভুত বদল আসতে থাকে, কেন জানি না,আমার প্রতি তার আরামদায়কতা দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে, একটা করে দিন যায় আর তিনি তার গল্পের ঝোলা থেকে নির্দ্বিধায় তিনি তার বাস্তব জীবনের একটা করে গল্প বের করতে থাকেন। বেশ ভালো মতনই অবাক হতাম আমি ,কিভাবে সে এত casual হয়ে উঠলো এই কদিনে, জানিনা, এই প্রশ্নটা আমাকে আজ অবধি ভাবায়। প্রথম দিকে আমার বড্ড বাজে লাগতো ,এক কানে কর্ড ঢুকিয়ে,আরেক কান থেকে বের করে , অজাগ্রত অবস্থায় ,মন দিয়ে শোনার ভান করতাম ,তার সেই আজগুবি গল্প গুলো জঙ্গল ভ্রমণ, মাছ ধরা , গাছে চড়ে ফল পাড়া আরও কত কি.. কোনদিনই ভালো করে শুনতাম না কিছুই..

ওই অচেনা পুরুষটির সম্পর্কে কিছু জানার সামান্য ইচ্ছা টুকুও আমার ছিলনা,
তাই আমি তার নামটুকুও জিজ্ঞেস করিনি কোনোদিন কিন্তু মাঝের দিকে তার গল্প গুলোয় যে আমার আগ্রহ জন্মায়নি সেটা আমি অস্বীকার করতে পারিনা।
ওনার কাছেই জানলাম উনি সরকারি চাকরির পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কোচিং নিচ্ছেন রোজ সকালে ওখানেই যান।ওনার বাবা পেশাগত ভাবে কৃষক। কৃষক দের এই চরম দুর্দশার দিনে উনি কোনো ভাবেই চাননা তার ছেলেও কৃষিকাজের সাথে যুক্ত হোক ,সিভিল সার্ভেন্ট হওয়ার ইচ্ছা , তাই জোরদার প্রস্তুতি চলছে। কি অদ্ভুত ব্যাপার তাই না? সবাই খেতে চায়, উৎপাদন করতে কেউ চায়না, কৃষক পিতা , পুত্র কে এই কাজে জড়াতে চায়না। ভবিষৎ তাহলে কি হতে চলেছে? কি হবে এই দেশের? কি হবে পৃথিবীর?এইভাবে আরও কিছুদিন পার হলো।
একদিন সে তার একেবারে ব্যক্তিগত গল্প শোনাতে শুরু করলো, আমিও কেমন যেনো উৎসাহিত হয়ে পরলাম। উনি বললেন
— আমার জীবনে একটি মেয়েও আছে ,যাকে ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ, আমার ভালোবাসা।
আমি একটু মুচকি হেসে মেয়েটির নাম জিজ্ঞেস করেই বসলাম, জানিনা কেনো জানতে ইচ্ছে হলো; মনে মনে ভাবলাম যে এইভাবে প্রেমিকার কথা, অচেনা মানুষের কাছে যে বলতে পারে সে নেহাতই ভালো মানুষ বটে।
— ক্যাবলার মতো হেসে বললেন ‘ পিউ ‘।
প্রেমিকার নাম বলতে গিয়ে যে প্রেমিকরা এইরকম বোকার মত আচরণ করে , তারাই বোধহয় আসল প্রেমিক।
— কিন্তু জানোতো আমাদের এত বছরের প্রেমটা বোধহয় কোনদিনই সফলতা পাবেনা।
— কেন? হঠাৎ এইরকম বলছেন ?আপনি তো চাকরিটা পেয়ে গেলেই প্রব্লেম সলভ্।
— না প্রব্লেম তো অন্য জায়গায়,
— যেমন?
— আগেকার দিনের ‘সই’ কনসেপ্টটা জানা আছে?
— হুঁ
— আমার ঠাকুমা ‘খুকু বালা দেবী’ তিনি তাঁর একমাত্র সই কে কথা দিয়েছিলেন তাঁর নাতনির সাথেই আমার বিয়ে দেবেন। তাই আমার নিয়তি ওখানেই, ওই মেয়েকে আমার একদম পছন্দ নয়,কিন্তু কিছু করার নেই।
–কেন কিছু করার নেই? আপনি বাড়িতে সব খুলে বলে দিচ্ছেন না কেন?
— ওতই সহজ ??তাহলে তো কবেই…
আমার মা – বাবা কেউ ঠাম্মার কথা ফেলতে পারবেননা।পিউ আর আমি একে অপরের সাথে বড্ড জড়িয়ে পড়েছি এইটাই সমস্যা নাহলে তো আজকাল তো কত ব্রেকআপ হচ্ছে, বিশেষ করে মেয়েটি খুব সরল সাধাসিধে,ওকে আমি কষ্ট দিতে চায়না,কিন্তু পরিস্থিতির চাপে পরে এই পাপটা আমাকে করতে হবে।
— পিউ জানে এই ব্যাপারটা?
— জানে, সবটা মেনে নিয়েছে,কষ্টটা সহ্য করে নেবে বলেছে;এই কষ্ট নাকি সহ্য করা যায় ,কারণ ও জানে যে আমি ওকে ঠকায়নি। যা করছি বাধ্য হয়ে,ও নিজেকে এই ভেবেই শান্তনা দেয়, এছাড়া ওকেও বিয়ে দিয়ে দেবে ওর বাড়ির পছন্দ করা ছেলের সাথে। ও বলেছে আমি যেনো নিজের মতো সুখে থাকার চেষ্টা করি।
— ভারী অদ্ভুত মেয়ে তো!! এতটা টা ত্যাগ?
— তাই তো ওর প্রতি এত ভালো লাগা, সে বলে “ Compromise is not about losing. It is about deciding that the other person has just as much right to be happy with the end result as you do.” বুঝলে কিছু? এইবার আমাকে উঠতে হবে , চলেই এলাম প্রায়, এর পরের দিন তোমার গল্প শুনবো কেমন?
সেদিন আমার মধ্যে কেমন একটা গুমোট ভাব প্রবেশ করেছিল ,অনেক কষ্টে নিজেকে অনেক কন্ট্রোল করে বলেছিলাম,
— আচ্ছা ,All the best.
মনে মনে ভেবেছিলাম দুটো মানুষের প্রতি কেমন যেনো একটা অবিচার হচ্ছে , কিন্তু ওরা এতটাই নিরুপায় যে ওদের প্রতিবাদ করার ক্ষমতা টুকু নেই । আমার সাথে সামান্য কিছু খারাপ ঘটলেই আমি আমার ভাগ্য কে দোষ দি তাহলে ওরা কার ওপর দোষ দেবে, ভাগ্য ? না ভগবান? না নিজেদের অসহায়তার ওপর? দু থেকে তিনদিন আমি গল্পটা বোঝার মত মাথায় নিয়ে ঘুরেছি ,তারপর ম্লান হয়ে গেছিলো।পৃথিবীতে কত রকমের মানুষ হয় তায়না?এই যেমন আমার আর ওদের দুজনের মধ্যে, বিস্তর তফাৎ ,আমি এক টুকরো খাবার নিয়ে কখনো composrise করিনা আর ওরা..
দুটো মানুষের মধ্যে কতটা শক্তি থাকলে কেউ এইভাবে বলিদান দেয়? আমি হলে পারতাম?কি জানি…
এরপর আমার 2nd sem এর study leave পড়ে গেছিলো,পরীক্ষা পর এক সপ্তাহের মতো ছুটি কাটিয়ে আবার আমি সেই পুরনো ‘আশা’ বাসে যাতায়াত শুরু করলাম প্রথম দু সপ্তাহ আমার ওই ‘বকবকইয়ে’ দাদার কোনো পাত্তা পেলাম না। আমি রোজ ওনার স্টপেজ এলেই জানলায় মুখ বাড়িয়ে ওনাকে খোঁজার চেষ্টা করতাম , ম্লান হয়ে যাওয়া গল্পের পরিণীতি জানার ইচ্ছা ছিল কিনা, কিন্তু তিনি আর এই বাসে ওঠেননি,সেদিনের পর আমাদের আর দেখা বা কথা কিছুই হয়নি। বোধহয় বাস বদলেছেন, এর থেকে বেশী আর কিছু আকাশ – কুসুম কল্পনা আমি সেদিন করিনি ।
এইভাবে অনেক গুলো দিন কেটে গেছিলো ইতিমধ্যে covid 19 এর কৃপায় জোরদার lockdown পালন করেছি ,বাড়ি বসেই আমার 6th sem cmplt হয়েছিল ,খালি result বেরোনো বাকি , তাহলেই আমি এক কথায় graduate। সেই period টাতে যখন University application, merit list , সব নিয়ে আমার নাস্তানাবুদ অবস্থা ,ঠিক সেই সময় একদিন দুপুর বেলা fb scroll করতে গিয়ে একটি প্রোফাইল আমার সাজেশন এ আসে , চেনা মুখ দেখে থেমে যায়..
কিছুক্ষন বাদে চিনতে পারলাম্ , বাসের সেই দাদা, নীচে লেখা ‘কৌশিক মন্ডল ‘ নামটা জানলাম শেষ অবধি। এমনিতেই আমার প্রোফাইল stock করার বাজে অভ্যাস ছিলই, তার ওপর আবার কৌশিকদার প্রোফাইল আর লোভ সামলাতে পারিনি সেদিন। প্রোফাইল ঢুকতে না ঢুকতেই বুক টা ধক্ করে উঠলো, দেখলাম একটি tagged photo, caption এ লেখা “Happy married life to both of you”, ফটোতে বরের বেশে বাসের সেই সরল সাধাসিধে ঢিলে প্যান্ট ওয়ালা দাদা ,পাশে একমাথা সিঁদুর নিয়ে বসে আছে এক অল্পবয়সী যুবতী , পিউ কে কোনোদিন সচক্ষে না দেখলেও , কৌশিক দার পাশে বসা থাকা তার বিবাহিত যুবতী যে পিউ না , তা বুঝতে আমার খুব বেশি সময় লাগেনি, বাসের আমার পরিচিত ওই ভ্যাবলা দাদার মুখে একটুও হাসি দেখতে পায়নি সেদিন ,যেন বুকে কেউ একটা আস্ত ইট চাঁপা দিয়ে রেখেছে। পিউ র বিয়ের দিনের ফটোটাও বোধহয় এই একইরকমই এসেছে, may be.. or may be not। আরেকটু নিচে না যেতেই যেতেই দেখলাম একজন লিখেছে ‘ সুখী হস কাকলি ‘ বুঝলাম ঠাম্মার সই এর নাতনির নাম কাকলি। কিন্তু কাকলি কি আদেও সুখী হবে? এর উত্তর আমার জানা ছিলনা তবে কৌশিক , পিউ যে শত চেষ্টা করলেও সুখী হবেনা সেইটা ভালো মতনই আন্দাজ করেছিলাম।
সবাই কি বিবাহিত জীবনে সুখী হয়? Arrange marraige তো দূরের কথা লাভ marraige এই বা আজকল কটা দম্পতি সুখী? তাহলে পিউ, কৌশিক ?
পৃথিবীতে এইরকম অগুনতি পিউ ,কৌশিক রোজ জন্ম নিচ্ছে এবং রোজ সংসারের জাঁতা কলে পিঁষে মারা যাচ্ছে,কে খবর রাখে তাদের?কেউ না।
উল্টো দিকে কাকলি আর পিউ র স্বামী, তাদেরই বা দোষটা কোথায় ?
এই কথা দেওয়া দেওয়ীর প্রথা কবে যে বন্ধ হবে তা জানা নেই..
যেমন ভাবেই হোক্ , যেই পথেই হোক্ ওরা যেন সুখী হয় ,ব্যাস এতটুকুই কাম্য।
বাস্তব জীবনে এতটা ট্র্যাজেডি বলেই হয়তো মানুষ গল্পে ,cinema তে happy ending চায়।
এই তিন বছর আমাকে টক,ঝাল ,মিষ্টি নানান ধরনের অভিজ্ঞতা প্রদান করেছিল , তার মধ্যে অনেক কিছু আমি হয়তো সারা জীবন এও ভুলতে পারবোনা, এই গল্পটাও ঠিক তেমন , আমার না ভোলার খাতায় নথিভুক্ত থাকবে।
আমার ডায়রি বাবুর মেয়াদ প্রায় ফুরিয়ে এলো বলে, ঘুমে চোখ গুলোরও একই হাল, কাল নতুন ডায়রি বাবুর সাথে আলাপ করবো নতুন উপহার নিয়ে, আজ যায়।
——-
Stay safe
Be happy
Thanks a lot for visiting.

Leave a reply to Avidhagoswami39 Cancel reply